যে ১২টি লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার ল্যাপটপ/ডেস্কটপ হ্যাক হয়ে গেছে

আজ জেনে নেব আপনার কম্পিউটার হ্যাক হওয়ার ১২টি লক্ষণ। সাইবার এট্যাক এখন সকলের কাছে চিন্তার একটি কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই সবাই ব্যস্ত আছে নিজেদের কম্পিউটার ও তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার। যদি আপনার মনে হয় যে আপনার পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জেনে গেছে বা কাউকে আপনার পাসওয়ার্ড বলে থাকেন তাহলে খেয়াল করুন আপনার কম্পিউটার এ কোন রকম কোন পরিবরতন এসেছে কি না?

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে সবার কাছে আমার রিকুয়েস্ট, যারা আমাদের ব্লগটি এখনো সাবস্ক্রাইব করেন নি তারা এখনি সাবস্ক্রাইব করে দিন আর আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে একদমই ভুলবেন না। তাহলে নিত্যনতুন আর্টিকেল আর ভিডিও পেয়ে যাবেন সবার আগে।

আজকে আপনাদের বলব ১২ টি লক্ষণ যাতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে অথবা আপনার ছবি চুরি হয়ে গেছে। যতটুকু সম্ভব বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবো। সাথে আছি আমি MD A H Kawsar. আপনারা দেখছেন AHK Tech Studio.

অ্যান্টিভাইরাস অফ হয়ে গেছেঃ

এন্টিভাইরাসগুলো অফ রাখা খুবই কষ্টকর । আপনি চাইলেও সহজে করতে পারবেন না। তাদের কাছে কিছু নিয়ম নীতি আছে সেটা অফ করার। তারা আপনাকে দুই বা তারও অধিকবার জিজ্ঞেস করতে পারে যে সে সত্যি অফ করতে চাই কিনা। প্রথম কাজ যেটা হ্যাকাররা করে তাহল এন্টিভাইরাসকে অফ করে দেয় যাতে আপনি সমস্যাটা ধরতে না পারেন। তাই যদি কখনো দেখতে পান যে আপনার কম্পিউটার এন্টিভাইরাস অফ হয়ে গেছে তাহলে সেটিকে আবারও অন করে দিন আর কোন কম্পিউটার স্পেশালিস্টে এর সরণাপন্ন হোন।

ফেক এন্টিভাইরাস নোটিফিকেশনঃ

যদি আপনি দেখতে পান যে আপনার এন্টিভাইরাসটি একটু অন্যরকম ভাবে নোটিফিকেশন দেখাচ্ছে আপনাকে তাহলে বুঝে নিন যে আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে। আরেকটি খারাপ লক্ষন হল আপনার কাছে একটি নতুন এন্টি ভাইরাস এসেছে যেটি আপনি ইন্সটল করেননি সেক্ষেত্রে আগে থেকেই সুধচিন্তা না করে চেক করে দেখুন আপনি যেই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করছেন সেটি আপডেট হয়েছে কিনা?

পাসওয়ার্ড কাজ না করাঃ

আপনি যদি আপনার একাউন্টটি এক্সেস করতে না পারেন তাহলে নিচে দিয়ে থাকা ফরগেট পাসওয়ার্ড এ ক্লিক করুন আর আপনার মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে নতুন ভাবে পাসওয়ার্ড রিসেট দিন। তার সাথে আপনি আপনার পরিচিতদের ফোন করে বলে দিন যাতে তারা আপনার থেকে পাঠানো কোন মেসেজ না পড়ে আর কোন লিংক শেয়ার করা থাকলে সেই লিংকে যেন না যায়।

ফ্রেন্ডের তালিকা বৃদ্ধি পাওয়াঃ

যদি লক্ষ করেন যে আপনার সোশ্যাল একাউন্ট গুলোর ফ্রেন্ডলিস্টে এমন ফ্রেন্ড চলে এসেছে যাদের কিনা আপনি চেনেনও না আর তাদের সংখ্যা অনেক বেশি তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার কম্পিউটার অথবা আপনার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছে। স্প্যাম মেসেজ এর অপশন থেকে আপনার আর আপনার ফ্রেন্ডদের মেসেজ গুলো চেক করুন।

ড্যাসবোর্ড এ নতুন আইকোনঃ

ব্রাউজার ব্যবহার এর সময় যদি আপনি দেখতে পান যে ওপরে থাকা ড্যাসবোর্ড নতুন আইকোন যুক্ত হয়েছে তাহলে এটি একটি লক্ষণ হতে পারে কোণ ভয়ংকর কিছুর। আপনার অপরিচিত কোন এপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন না যদি না আপনি হ্যাকারদের পাল্লায় পরতে চান। চেষ্টা করুন ডিলেট করার জন্য।

কার্সর একা একাই মুভ হওয়াঃ

যদি আপনি দেখতে পান যে আপনার কার্সর একা একাই মুভভ হচ্ছে আর সেটা কোন কাজ করছে বা হাইলাইট হচ্ছে তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকুন যে আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে। কেও একজন কিছু একটা করছে ওই সময়ে।সেই মুহুর্তে আপনার করনীয় হল ইন্টার্নেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

প্রিন্টার ঠিকমতো কাজ না করাঃ

আপনি জেনে অবাক হবেন যে শুধু মাত্র নেট থেকেই নয় কখনো কখনো আপনার ডিভাইস গুলোও হ্যাক করে নিতে পারে আপনার কম্পিউটার।উদাহরন সরূপ, যদি আপনার প্রিন্টার কোন কিছু প্রিন্ট করতে নারাজ হয় তার মানে হয় আপনার কম্পিউটার হ্যাক অয়েছে অথবা আপনার প্রিন্টার এ কাগজ দেয়া নেই। একই ভাবে অন্যান্য ডিভাইস যেগুলো আপনার কম্পিউটার এর সাথে যুক্ত করা আছে।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়াঃ

আপনার জানা উচিত যদি আপনার ব্রাউজার আপনাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ নিয়ে যায় তাহলে আপনাকে একজন স্পেশালিস্ট এর কাছে যাওয়া উচিত।

আপনার ফাইল ডিলেট হয়ে গেছেঃ

শতভাগ নিশ্চিত থাকুন আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে যদি দেখতে পান আপনার কোন ফাইল ফাঁকা হয়ে গেছে। চিন্তা করবেন না অনেক টুলস আছে যার সাহায্যে আপনি ফেরত আনতে পারবেন আপনার হারিয়ে যাওয়া ফাইলগুলো।

আপনার ডাটা ইন্টার্নেটেঃ

যদি আপনি দেখতে পান যে আপনার ডাটা গুলো ইন্টার্নেটে দেওয়া আর আশ্চর্যজনক ভাবে আপনি সেগুলো দেন নি তাহলে ভয় পাবেন না। অনেক সময় হ্যাকাররা ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এমন করে থাকে। সেক্ষত্রে আপনি আপনার ব্যংকে ফোন করে আপনার একাউন্ট থেকে অনলাইনে যাতে পেমেন্ট দেয়া না যায় সেটির ব্যবস্থা করুন তারপর একজন স্পেশালিস্ট কে জানান।

ওয়েব ক্যামেরাঃ

চেক করুন আপনার ওয়েব ক্যামেরা ইন্ডিকেটর যদি সেটা ব্লিংক করে তাহলে জানবেন যে কোন এপ্লিকেশন দেওয়া নেই যেটির ওয়েব ক্যামেরা প্রয়োজন। যদি আপনি ওয়েব ক্যামেরা অন হওয়ার কোন কারণ দেখতে না পান তাহলে আপনার সিস্টেমকে রিবুট করুন এবং পুনরায় চেক করুন। তারপরও যদি অন করা থাকে ওয়েব ক্যামেরা তাহলে সেটা চিন্তার কারণ।

কম্পিউটার খুবই স্লোঃ

যদি কোন সাধারন কাজ করতেও আপনার কম্পিউটার অনেক বেশি সময় নিয়ে নেয় আর আপনার যদি মনে হয় এটা একটা ট্র্যাপ তাহলে তাহলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা যায় যে কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে। সেক্ষেত্রে রিবুট করুন আপনার কম্পিউটারকে এবং চেক করুন সিস্টেমকে আবারও। হয়ত আপনার হার্ডওয়ার আপগ্রেট এর প্রয়োজন।তাও যদি কাজ না হয় তাহলে আপনার জানা আছে আপনাকে কি করতে হবে। কল করুন একজন স্পেশালিস্টকে।

শেষ কথাঃ এতো কিছু পরও যদি আপনার সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে স্পেশালিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।


তো এই ছিলো আজকের বিস্তারিত আলোচনা। জানি না কতটুকু বুঝাতে পেরেছি বা কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি। তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি আপনাদের বুঝানোর জন্য। যাই হোক, আর্টিকেলটি যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদমই ভুলবেন না। আবার হাজির হবো নতুন কোনো আর্টিকেল নিয়ে। ততক্ষন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

"আল্লাহ হাফেজ"

0 Comments