CPU কি | সিপিইউ এর প্রসেসিং স্পিড ফ্রি’তে যেভাবে দ্বিগুণ করবেন

AHK Tech Studio তে আপনাদেরকে আবারো স্বাগতম। আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আর ভালো আছেন বলেই আমাদের ব্লগের এই নতুন আর্টিকেলটি পড়তে বসেছেন। আমিও ভালোই আছি। তবে শীত একটু বেশি। তাই বাইরে কোথাও না গিয়ে ভাবলাম আপনাদের একটি আর্টিকেল উপহার দিলে মন্দ হয় না। আর এজন্যই তো লিখতে বসা।

আজকে আমরা কথা বলবো কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ অর্থাৎ CPU (central processing unit) নিয়ে । আপনারা যারা আমাদের ব্লগের নিয়মিত পাঠক তারা জানেন যে আমি প্রতিদিনই আপনাদের জন্য কিছু না কিছু নিত্যনতুন আর্টিকেল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি । তো তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা কথা বলবো কম্পিউটারের খুবই একটি কেন্দ্রীয় ইউনিট নিয়ে । নামটা নিশ্চই এতক্ষনে জেনে গেছেন । হ্যাঁ সেটা হল CPU (central processing unit) । নামেই বুঝা যায় এর কাজ কি। অফিস আদালতের যেমন হেড অফিস থাকে তেমনি কম্পিউটারের সকল কাজ গুলোকে নিয়ন্ত্রণের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ থাকে যাকে বলা হয় সিপিউ। মূলত কম্পিউটার বলতে বস্তুগত দিক থেকে সিপিউ অংশকেই বেশি বুঝায়। সিপিউ যেহেতু সকল কাজের মূলে অবস্থান করে সেহেতু এর দক্ষতা যথেষ্ট হাই লেভেলের হওয়া উচিৎ। সিপিউ এর দক্ষতা আমরা সাধারণত এর কাজ প্রক্রিয়া করার গতির উপর নির্ধারণ করে থাকি। সুতরাং ভালো মানের সিপিউ বলতে আমরা উচ্চ গতির সিপিউ’কে বলি। তাছাড়া বর্তমানে বাজারে বা অনলাইনে যে সকল প্রোগ্রাম / সফটওয়্যার পাওয়া যায় তার সব অধিকাংশই উন্নত হাই লেভেলের। তাই উচ্চ গতি থাকাটা অতি জরুরী ভালো মানের কাজের আউটপুট পেতে। তবে আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে উচ্চ গতির সিপিউ এর মূল্য বেশ বেশি। কিন্তু উচ্চ গতির সিপিইউ খুব দামী হওয়ার কারনে অনেকেই সেটা কিনতে পারি না । কিন্তু আমরা যদি উচ্চ গতির সিপিইউ না কিনেই আমাদের ব্যবহৃত সিপিইউ টাকেই কিছু প্রসেস ব্যবহার করে উচ্চ গতিসম্পন্ন করে ফেলতে পারি তাহলে নিশ্চই মন্দ হয় না । তো বন্ধুরা,  আজ আমি আপনাদের এমন কৌশল জানাবো যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ডিফল্ট ভাবে থাকা সিপিউ এর স্পিডকে দ্বিগুণ করে নিতে পারবেন তাও আবার একদম ফ্রিতে! সাথে আছি আমি MD A H Kawsar. আপনারা দেখছেন AHK Tech Studio.

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে সবার কাছে আমার রিকুয়েস্ট, যারা আমাদের ব্লগটি এখনো সাবস্ক্রাইব করেন নি তারা এখনি সাবস্ক্রাইব করে দিন আর আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে একদমই ভুলবেন না। তাহলে নিত্যনতুন আর্টিকেল আর ভিডিও পেয়ে যাবেন সবার আগে।

কোর কি এবং কোরের কাজ কি ?

আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে আমাদের CPU কোর মাল্টি কোর হলেও, এর মাত্র ৮টি কোর সিপিউ ব্যবহার করে। আসলে সিপিউ ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার কোর গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে রাখে। ওয়ার্কিং কোর ৮টি আর ব্যাকআপ কোর ৮ টি এই নিয়মে সিপিউ তার কোর গুলোকে ভাগ করে রাখে। অর্থাৎ আমাদের অধিকাংশ সিপিউ এর মোট কোর সংখ্যা ১৬টি। ওয়ার্কিং কোরের যদি কখনো কাজ করতে করতে ৮টি কোরের কোনটি ফেল করে বা ডিজেবল হয়ে যায় তাহলে সিপিউ তার ব্যাকআপ কোর থেকে সেই অভাব পুরণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সিপিউ তার অতি কাজের চাপে সর্বচ্চো ৫ টি কোর ডিজেবল হয়ে যেতে পারে বা ফেল করতে পারে আর তখন ব্যাকআপ কোর গুলোকে কাজে লাগিয়ে কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো ব্যাকআপ ৫ টি কোর কাজে যোগ দিলেও বাকি ৩টি কোর তখনো অলস হয়ে পরে থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বলতে পারি এটা কোরের কাজের অপচয়।

আবার আমরা যদি ১৬টি কোরকেই একই সাথে কাজে লাগাতে পারি তাহলে ওয়ার্কিং কোরের উপরে চাপ কম হয়ে যাবে এবং সেই সাথে সকল কোর কাজ ভাগ করে নিয়ে খুব সহজেই সিপিউ এর কাজ গুলো সম্পন্ন করতে পারে। এই ক্ষেত্রে আমি সব গুলো কোরকেই ব্যবহার করতে পরামর্শ দিবো। এখন প্রশ্ন করতে পারেন যে যদি কোন কোর ফেল/ ডিজেবল হয়ে যায় তাহলে কি হবে?

দেখুন ডিফল্ট ভাবেই আপনি ৮টি কোর নিয়ে কাজ করছিলেন আর এখন যদি ১৬টি কোর নিয়ে কাজ করেন তাহলে যদি কোন কোর ফেল করে/ ডিজেবল হয় তাতেও সমস্যা নাই। কারণ আপনার সিপিউকে কমপক্ষে ৮টি কোর দ্বারা চালানোর প্রোগ্রাম করা আছে। ফলে দুইটা বা তিনটা কোর যদি ডিজেবল/ফেল করে ১৬টি কোর থেকে তারপরেও আপনি ভালো স্পিড পাবেন কারণ তখনো আপনি ১৩টি কোর ব্যবহার করতে পারছেন আগের চেয়ে। তাই আমি বলবো আপনার সিপিউ এর ব্যাকআপ কোর শুধু শুধু অলস ফেলে রাখবেন না বরং কাজে লাগান এতে ডিফল্ট কোর গুলোর উপরেও চাপ কমবে সেই সাথে আপনার সিপিউ এর কাজের স্পিডও বাড়বে। আর ভয়ের কিছু নেই কারণ এতে আপনার সিপিউ এর কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নাই।

যেভাবে ব্যাকআপ কোর গুলোকে অ্যাক্টিভ করবেনঃ

আপনি উইন্ডোজ ভিস্তা, সেভেন, এইট, টেন যেটাই ব্যবহার করুন, সব গুলোর সেটিংস একই।

  • প্রথমে windows+r চেপে রান উইন্ডোটি বের করুন। তারপর রান এর বক্সে লিখুন msconfig তারপর Enter প্রেস করুন । 
  • এখন আপনি একটি মেন্যু পাবেন। মেন্যুতে থাকা boot অপশনে প্রবেশ করুন। এই মেনুর কোন কিছুতে ক্লিক করবেন না । কারণ আপনার ভুল ক্লিকে বুট করায় সমস্যা হতে পারে। শুধু advance options এ ক্লিক করুন। এখন আপনি দেখতে পাবেন number of processors অপশন রয়েছে তাতে ক্লিক করে সিলেক্ট করে দিন আপনার সর্বচ্চো প্রসেসর কোর সংখ্যাটি ।

(বিঃদ্রঃ প্রসেসর মডেলের উপর নির্ভর করে কোর সংখ্যা। কোর সংখ্যা ৪-১৬ পর্যন্ত বর্তমানে পাওয়া যায়, আপনার কোর সংখাটি দেখে নিন এখান থেকে । এখানে ক্লিক করার পর সার্চ করেলেই পেয়ে যাবেন)।

  • এরপর OK ক্লিক করলে আপনার পিসিটি রিস্টার্ট চাইবে। আপনি রিস্টার্ট না দিয়ে exit without restart করে বের হয়ে আসুন। 

রিস্টার্ট দিতে বলছি না এখন কারণ আমরা আগে দেখবো বর্তমানে কি পরিমাণ প্রসেস করতে পারছে প্রসেসর আর রিস্টার্ট দেয়ার পর সব কোর কাজে লাগিয়ে কি পরিমাণ কাজে লাগাতে পারছে তা নিরুপন করার জন্য। কোর এর কাজ মনিটরিং কোর সেট তো করা হলো। এইবার কিভাবে চেক করবেন বর্তমানে পিসির কোর কেমন কাজ করছেন তাই তো? আচ্ছা ভাবনার কিছু নেই।

কোরের কাজের মনিটরিংঃ

  • এবার স্টার্ট মেন্যুতে গিয়ে all program এ দেখুন windows administrative tools, এখানে প্রবেশ করে performance monitor এ ক্লিক করে more অপশনে যেয়ে run as administrator করুন। performance monitor মেন্যুতে এখন data collectoruser defined অংশে ক্লিক করুন।

  • এখন পাশের ফাঁকা অংশে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে new > data collector set করে cpu নাম দিয়ে create manually সিলেক্ট দিয়ে প্রবেশ করুন।
  • এরপর create data logs অংশে performance counter চিহ্নিত করে নেক্সট করুন। এরপর যে মেনুটি ওপেন হবে সেখানে Next না করে add অপশনে ক্লিক করে প্রবেশ করুন।
  • মেন্যুতে দেখতে পাবেন processor লিখা আছে তাতে ক্লিক করে নিচের মেন্যুতে সিলেক্ট করে দিন সর্বচ্চো সংখ্যাটি এবং add করে দিন।
  • এখন আবার উপরের মেন্যুতে ফিরে গিয়ে process এ ক্লিক করে এক্সপেন্ড করে thread count এ ক্লিক করুন তারপর add করে দিন। 
  • এখন ok তারপর next করে করে ফিনিশ করে দিন। এই কাজ গুলো করার ফলে আপনার পিসির সিপিউ অনুমতি পেয়ে গেলো সব গুলো কোরকে কাজে লাগিয়ে কাজ করার। এখন দেখার বিষয় কি পরিমাণ ফাস্ট হয়েছে পিসির সিপিউ।

ফলাফল পর্যবেক্ষণঃ

এখন আপনাকে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে আপনার কোরের কাজের স্পীড দেখার জন্য । Geekbench3 সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। এখন টেস্ট করে দেখুন আপনার কোর এর কাজের স্পিড। এটা অবশ্যই রিস্টার্ট করার আগে চেক করে নিবেন। দেখে রাখুন কি রেজাল্ট হলো। এবার পিসি রিস্টার্ট করে আবার চেক করে দেখুন কি পরিমাণ কোর কাজের স্পিড পেয়েছে। নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি কাজের স্পিড দেখে অবাক হবেন।


শেষ কথাঃ আপনার পুরাতন কিংবা নতুন যে কোন প্রসেসরের জন্যই এই ট্রিক্সটা কার্যকরী। তবে মনে রাখবেন একেক কোরের জন্য একেক রকম কোর সংখ্যা থাকে। আমার কোর আই সেভেন হওয়ায় কোর সংখ্যা ১৬ পেয়েছি। ডুয়েল কোর/ কোর টু ডুয়ো ৪ টি কোর থাকবে। কোর আই থ্রি এর জন্যও ৪ টি। কোর আই ফাইভের জন্য ৬ টি কোর দেখাতে পারে। আপনার কোরের সংখ্যা দেখতে ark.intel.com এ গিয়ে সার্চ করে দেখুন।

তো এই ছিলো আজকের বিস্তারিত আলোচনা। জানি না কতটুকু বুঝাতে পেরেছি বা কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি। তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি আপনাদের বুঝানোর জন্য। যাই হোক, আর্টিকেলটি যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদমই ভুলবেন না। আবার হাজির হবো নতুন কোনো আর্টিকেল নিয়ে। ততক্ষন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

"আল্লাহ হাফেজ"

0 Comments