কত জিবি র‍্যাম প্রয়োজন ? ৪, ৮, ১৬ ও ৩২ জিবি র‍্যামের পরীক্ষার ফলাফল দেখে নিন


AHK Tech Studio তে আপনাদেরকে আবারো স্বাগতম। আশা করি সবাই ভালোই আছেন। আর ভালো আছেন বলেই আমাদের ব্লগের এই নতুন আর্টিকেলটি পড়তে বসেছেন। আমিও ভালোই আছি। তবে শীত একটু বেশি। তাই বাইরে কোথাও না গিয়ে ভাবলাম আপনাদের একটি আর্টিকেল উপহার দিলে মন্দ হয় না। আর এজন্যই তো লিখতে বসা।

প্রতিদিন নিত্যনতুন আর্টিকেল আপনাদেরকে উপহার দেওয়ার ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা কথা বলবো কম্পিউটারের র‍্যাম নিয়ে । এর আগে আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করেছিলাম কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে । সেখানে বলেছিলাম কিভাবে আপনি আপনার কম্পিউটারের সিপিইউ এর কার্যক্ষমতা দ্বিগুণ করতে পারেন । এবং সেটার সরাসরি প্রমান আপনাদের দ্বারাই পরীক্ষা করিয়েছি । আপনি যদি সেই আর্টিকেলটি না পড়ে থাকেন তাহলে এখান থেকে পড়ে আসতে পারেন । অনেক তো কথা হল - এবার আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই । সাথে আছি আমি MD A H Kawsar. আপনারা দেখছেন AHK Tech Studio.

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে সবার কাছে আমার রিকুয়েস্ট, যারা আমাদের ব্লগটি এখনো সাবস্ক্রাইব করেন নি তারা এখনি সাবস্ক্রাইব করে দিন আর আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে একদমই ভুলবেন না। তাহলে নিত্যনতুন আর্টিকেল আর ভিডিও পেয়ে যাবেন সবার আগে।


RAM কি ?

RAM কি বা কত জিবি র‍্যাম প্রয়োজনীয় বা দরকার এমন প্রশ্ন অনেকেই করেন। কম্পিউটারের কাজের জন্য ডাটা গুলোকে প্রাথমিক ভাবে এই র‍্যামে রাখা হয়। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে র‍্যাম যত বেশি হবে তত বেশি ডাটা নিয়ে কাজ করা যাবে। তাই কাজের সুবিধার্থে সবাই চায় বেশি র‍্যাম যুক্ত ডিভাইস নিতে। এখন আপনি নিশ্চয় জানতে চাইবেন বর্তমান সময়ের জন্য কত জিবি র‍্যাম ব্যবহার করলে সব কাজ মোটামোটি করা সম্ভব হবে? তো আজ আমি আপনাদের এই বিষয়েই কিছু তথ্য তুলে ধরবো। এই পোস্টটি লিখার আগে আমি ৪ সাইজের র‍্যাম ( ৪জিবি, ৮জিবি, ১৬জিবি, ৩২জিবি) নিয়ে কাজ করেছি। আর যেসব পরীক্ষা চালিয়েছি তার মধ্যে অনলাইন ব্রাউজিং, ভিডিও গেম, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ভিডিও এডিটিং। কত জিবি র‍্যাম প্রয়োজনীয় এই পোস্টটি পড়ার পর আপনি নিজেই তা বুঝতে পারবেন। প্রথমে আমি আপনাদের অনলাইন ব্রাউজিং টেস্ট এর ফল জানাবো।

অনলাইন ব্রাউজিংঃ

অনলাইন ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে ট্যাব ওপেন করা ফর্মুলা ব্যবহার করেছি। একেক র‍্যামে একেক রকম মজার ফলাফল পেয়েছি। ক্রোম ব্রাউজারে টেস্ট করেছি কোন র‍্যাম দিয়ে কয়টি ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটের ট্যাব ওপেন করা যায়।
  • ৪জিবি র‍্যামঃ এই র‍্যামে ১৩ টি ট্যাব খুলেছি এবং প্রতিটি ট্যাব এ ভিন্ন ভিন্ন ভারি ওয়েবসাইট ছিল। মজার বিষয় হলো ৪জিবি র‍্যামে মাত্র ১৩টি ট্যাব সাপোর্ট করেছে। যখনই ১৪ নাম্বার ট্যাব ওপেন করেছি সাথে সাথেই ক্রোম ক্রাস করেছে। পরীক্ষাটি ২বার করেছি। ফলাফল দুই বারই সেইম।
  • ৮জিবি র‍্যামঃ ৮জিবি র‍্যামে ভেবেছিলাম ৫০টির বেশি ট্যাব ওপেন করতে পারবো কিন্তু আমি হতাশ। প্রথম ২৫টি ট্যাব খুব স্মুথলি খুললেও বাকি ট্যাব গুলো খুলতে একটু কস্ট করতে হয়েছে। সর্বমোট ৪১টি ট্যাব ওপেন করতে সফল হয়েছি। ৪২/৪৩ নাম্বার ট্যাব ওপেন করার সময় ক্রোম ক্রাশ করে। পরীক্ষাটি ২বারের বেশি করার ধৈর্য হয়নি আমার।
  • ১৬জিবি র‍্যামঃ ১৬জিবি র‍্যাম বেশ ভালো কাজ দিয়েছে। প্রথম ৮০টি ট্যাব কোন রকম প্রবলেম ছাড়াই ওপেন হয়েছে। এমনকি ১৫০ তম ট্যাব পর্যন্ত মোটামোটি ভালো মতই ওপেন হয়েছে। ১৮০ তম ট্যাব ওপেন করা মাত্রই ব্রাউজার ক্রাশ করেছে। এই পরীক্ষাটি ২বার করেছি। ফলাফল সেম।
  • ৩২জিবি র‍্যামঃ নিশ্চয় এই র‍্যাম এর পাওয়ার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন এখন? এই র‍্যাম দ্বারা কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ১৬০টি ট্যাব ওপেন করতে সক্ষম হয়েছি এবং ৩৫০টি ট্যাব মোটামোটি ঝামেলা ছাড়াই ওপেন করেছি। ৪১৯ তম ট্যাব ওপেন করা মাত্রই ব্রাউজার ক্রাস করে। পরিক্ষারাটি ৩বার করেছি। ফলাফল প্রায় সেম।

ভিডিও গেম মোডঃ

দুটি হাই গ্রাফিক্সের গেম খেলেছি এই পরীক্ষায়। “কল অব ডিউটি মডার্ন ওয়ারফেয়ার” এবং “রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার” গেম দুটিতে আগের মত করে যথাক্রমে ৪,৮,১৬ এবং ৩২জিবি র‍্যাম ব্যবহারে কেমন প্লে হয় তা দেখেছি। আমি এই পরীক্ষায় একটু অবাক হয়েছি। কারণ এগুলোতে উল্লেখিত র‍্যামের চেয়েও কম র‍্যামে কাজ করেছে। “কল অব ডিউটি মডার্ন ওয়ারফেয়ার” গেমটির জন্য ৮জিবি এবং “রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার” গেমের জন্য ১৬জিবি র‍্যাম উল্লেখ ছিলো।
  • ৪জিবি র‍্যামঃ দুটি গেমের মধ্যে দুটিই প্লে হয়েছে কিন্তু “রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার” গেমটি কিছুক্ষণ চলার পর র‍্যাম কাজ অফ করে দেয়।
  • ৮জিবি র‍্যামঃ দুটিই গেমই চালু হয়েছে। কিন্তু “রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার” গেমটি ফুল র‍্যাম নিয়ে চলছিলো সিপিউ টেম্প বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।
  • ১৬জিবি র‍্যামঃ দুটি গেমই স্মুথলি চলেছে।
  • ৩২জিবি র‍্যামঃ কিছু বলবোনা, বেশি বললে পোস্ট লিখতে কিবোর্ড নষ্ট হবে (হাহাহা)। অসাধারণ পারফর্ম করেছে।

ভিডিও এডিটিং মোডঃ

আমরা জানি ভিডিও এডিটিং করতে অনেক হাই গ্রাফিক্স লাগে আর সেই সাথে হাই র‍্যামও লাগে। ৪, ৮, ১৬ এবং ৩২জিবি র‍্যামে ভিডিও এডিটিং করে দেখেছি। যদিও সাধারণ এডিটিং এ তেমন কোন সমস্যা চোখে পড়েনি কম র‍্যাম ব্যবহার করে। কিন্তু বড় ভিডিও এডিটিং যেমন সাউন্ড মিক্সিং, ভিডিও কেটে অন্য ভিডিওর অংশ যোগ করা , আফটার ইফেক্ট ব্যবহার করা এসবে ৮ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করে শান্তি পাওয়া যায় নি। আসলে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং এডিটিং করার ক্ষেত্রে হাই র‍্যাম থাকা জরুরী। সর্বনিম্ন ১৬ জিবি র‍্যাম অবশ্যই প্রয়োজন।


শেষ কথাঃ শুধু বেশি র‍্যাম নিলেই যে পিসি ভালো পারফর্ম করবে তা কিন্তু নয়। কারণ আপনি যে কাজের জন্য নিচ্ছেন সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। শুধু গান মুভি আর সাধারণ কাজের জন্য ১৬/৩২ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা মানে অপচয়। এগুলোতে ৪জিবি র‍্যামই যথেষ্ট। তবে দিন দিন পিসির সফটওয়্যার গুলো বেশ উন্নত ও আপডেটেড হওয়ায় এগুলোকে উপযুক্ত কাজে লাগাতে বেশি র‍্যাম প্রয়োজন। পাঠক এই ছিলো আজকের র‍্যাম নিয়ে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পোস্ট। আমার মতে বর্তমান সময়ের সফটওয়্যার বিবেচনা করলে ৮ জিবি র‍্যাম দিয়ে চলবে সব কিছু কিন্তু খুব দ্রুতই আপনাকে তা আপডেট করতে হবে নইলে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আর যারা ১৬জিবি ব্যবহার করছেন তারা আপতত রিলাক্স মুডে থাকুন।

তো এই ছিলো আজকের বিস্তারিত আলোচনা। জানি না কতটুকু বুঝাতে পেরেছি বা কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি। তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি আপনাদের বুঝানোর জন্য। যাই হোক, আর্টিকেলটি যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদমই ভুলবেন না। আবার হাজির হবো নতুন কোনো আর্টিকেল নিয়ে। ততক্ষন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

"আল্লাহ হাফেজ"

0 Comments