Article 13 কি এবং কেন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ।


হ্যালো বন্ধুরা, TechRajjo.Com – Create Your Own Creativity তে আপনাকে স্বাগতম । কেমন আছেন সবাই ? নিশ্চয় ভালো আছেন । আর ভালো আছেন বলেই হয়তো আমাদের টেক রাজ্য থেকে আপনার পছন্দের এই আর্টিকেলটি পড়তে বসছেন । আমরা আমাদের টেক রাজ্যে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল শেয়ার করে থাকি । যাতে মানুষ প্রযুক্তিকে সহজে জানতে ও বুঝতে পারে ।  তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি প্রযুক্তি বিষয়ক আরেকটি আর্টিকেল পোস্টের টাইটেল পড়ে এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে, আজকে আমরা কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো ।

গত কয়েকমাস ধরে YouTube, Facebook সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় Article 13 নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে । বাংলাদেশেও এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে  এবং কিছু ভুল তথ্য অনেকে ছড়াচ্ছে । কেউ একজন কিছু ভুল তথ্য অন্যের কাছে শেয়ার করছে আবার সে আরও কিছু ভুল তথ্য যোগ করে আরেকজনকে জানাচ্ছে ।

তো আজকে আমি চেষ্টা করবো Article 13 কি সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার এবং যে Misconception গুলো তৈরি হয়েছে আমাদের সোশ্যাল কমিউনিটিতে  সেগুলো ভাঙার এবং এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি এবং কার এগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে সেগুলো তুলে ধরব ।
তার আগে আপনার কাছে আমাদের রিকুয়েস্ট, আপনি যদি আমাদের ব্লগটি সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন, তাহলে এখনি সাবস্ক্রাইব করে নিন । তাহলে প্রযুক্তি বিষয়ক নিত্যনতুন আর্টিকেল সবার আগে পৌঁছে যাবে আপনার কাছে ।

তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় ফিরে যাই ।

Article 13 হচ্ছে European Union এর একটি Proposed Law. তার মানে এখনো এই আইনটা পাশ হয় নি । তবে European Union এর বেশিরভাগ মানুষ এটার পক্ষে ভোট দিয়েছে , তার মানে এই আইনটা পাশ হয়ে যেতে পারে । এখন এই Article 13 এটার মানে কি ?

আমরা সবাই জানি Youtube বা সোশ্যাল মিডিয়া, এমনকি Mainstream Media সব জায়গায় একটা আইন আছে সেটা হল Fair Use Policy. Fair Use Policy তে  আপনি চাইলে অন্যের একটা কপিরাইট কন্টেন্ট এর সামান্য কিছু নিজের কন্টেন্ট এ ব্যবহার করতে পারবেন । তবে সেটা ভালো কিছু প্রয়োজনে । যেমন শিক্ষামূলক কিছু আপনি অন্যের কন্টেন্ট থেকে এনে নিজের কন্টেন্ট এ ব্যবহার করতে পারবেন । এছাড়া আরও ভালো যে দিকগুলো আছে সেগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারবেন ।
এখন কথা হচ্ছে, European Union বলছে এই Fair Use Policy টা তাদের দেশে চলবে না । অর্থাৎ তাদের দেশে যত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছে তারা অন্যের ভিডিও থেকে ১ এক সেকেন্ডও নিজের ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবে না । তাদের মতে, এই Fair Use Policy মানুষের সৃজনশীলতা নষ্ট করে । এখন একটা বিশাল অঙ্কের ক্রিয়েটর আছে যারা এই Fair Use Policy ব্যবহার করে নিজের একটা ভালো এবং শক্ত প্লাটফর্ম তৈরি করে নিয়েছে । তো এই ক্রিয়েটররা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশ থেকে ব্যান হয়ে যাবে । আমি আবারো বলছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশ । ঠিক এই জায়গাতেই Misconception গুলো তৈরি হয়েছে । এখন অনেকেই মনে করছে বাংলাদেশেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই আইনটা চালু হবে । মানে বাংলাদেশের ক্রিয়েটররা Fair Use Policy ব্যবহার করতে পারবে না । এই ধারণাটা একদমই ভুল একটা ধারণা । এই আইনটা শুধু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশে কাজ করবে । অর্থাৎ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশে যত ক্রিয়েটর আছে তারা অন্যের ১ সেকেন্ডের ভিডিও নিজের কন্টেন্ট এ ব্যবহার করতে পারবে না বা Youtube, Facebook সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে পারবে না । সেই সাথে যেসব ভিডিওতে এইরকম কপিরাইট ম্যাটারিয়াল আছে সেই ভিডিওগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশে ভিউ হবে না । অর্থাৎ কপিরাইট ভিডিওগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশে ব্যান হবে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কে এই ভিডিওগুলো ব্যান করবে ? এই ভিডিওগুলো ব্যান করবে YouTube, Facebook এর মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া । যেহেতু Article 13 ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি আইন এবং এই আইনটা যখন পাশ হয়ে যাবে তখন YouTube, Facebook এর মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াগুলো এই আইনটা মানতে বাধ্য । এবং তখন YouTube ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি কঠিন হয়ে যাবে । ফলে যেসব ভিডিওতে ১ সেকেন্ডও কপিরাইট আছে সেই ভিডিওগুলো YouTube আপলোড করতে দিবে না যদি আপনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশের মধ্যে হয়ে থাকেন । আর যদি আপনি সেই ২৮ দেশের বাহিরে হয়ে থাকেন তাহলে কপিরাইট ভিডিও আপলোড করতে পারবেন কিন্তু ওই ২৮ দেশে আপনার ভিডিও ভিউ হবে না । ওই ২৮ দেশের জন্য আপনার ভিডিও ব্যান থাকবে । তবে আপনি অন্য দেশ থেকে আপলোড করতে পারবেন ।

এখন যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশের বাহিরে আছে তারাও কিন্তু এই আইনটার জন্য পরোক্ষভাবে এফেক্টেড হবে । কারণ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনেক ভিউয়ার আছে যারা কপিরাইট ভিডিওগুলো ভিউ করতে পারবে না । ফলে যারা Fair Use Policy ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশের ভিউয়ার হারিয়ে ফেলবে । কারণ তাদের দেশে সেই Fair Use Policy র ভিডিওগুলো ব্যান থাকবে যার কারনে ভিডিওগুলো তারা ভিউ করতে পারবে না । তবে অন্য দেশ থেকে ভিউ হবে তবে ভিডিওতে ভিউয়ের সংখ্যা অনেক কমে যাবে । এখন আপনি যদি Fair Use Policy ব্যবহার করে ভিডিও বানিয়ে থাকেন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশে যদি আপনার কোন ভিউয়ার থেকে থাকে, তাহলে তারা আর আপনার ভিডিওগুলো দেখতে পারবে না ।

এই ছিল Article 13  নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা । আমি আশা করি Article 13 নিয়ে আপনার মনে যে Misconception গুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো ভেঙেছে । জানিনা আপনাদের কতটুকু বুঝাতে পেরেছি । তবুও যদি ভালো লেগে থাকে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করে তাকেও জানার সুযোগ করে দিন । তবেই আমাদের লিখা সার্থক হবে । আর আমরা আরও ভালো ভালো আর্টিকেল লিখতে উৎসাহ পাবো ।

শেষ কথাঃ আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আলোচ্য আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আমি আশা করবো উক্ত আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি সামান্য কিছু হলেও জানতে, বুঝতে ও শিখতে পেরেছেন । তারপরও যদি কারও বুঝতে অসুবিধা হয় কিংবা কোন প্রকার সমস্যা হয় তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
আজ এ পর্যন্তই । আবার আপনাদের সামনে হাজির হবো অন্য কোন প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল নিয়ে । ততদিন সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন আর টেক রাজ্যের সাথেই থাকুন । ধন্যবাদ...

Article 13 কি এবং কেন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা । Article 13 কি এবং কেন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা । Reviewed by CEO on Thursday, December 27, 2018 Rating: 5

No comments:

It can be commented that the post was good. You can also comment on any problem. We will try to solve as much as possible.

Powered by Blogger.