32 Bit or 64 Bit Operating System কি এবং কেন ?

হ্যালো বন্ধুরা, TechRajjo.Com – Create Your Own Creativity তে আপনাকে স্বাগতম । কেমন আছেন সবাই ? নিশ্চয় ভালো আছেন । আর ভালো আছেন বলেই হয়তো আমাদের টেক রাজ্য থেকে আপনার পছন্দের এই আর্টিকেলটি পড়তে বসছেন । আমরা আমাদের টেক রাজ্যে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল শেয়ার করে থাকি । যাতে মানুষ প্রযুক্তিকে সহজে জানতে ও বুঝতে পারে ।  তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি প্রযুক্তি বিষয়ক আরেকটি আর্টিকেল । পোস্টের টাইটেল পড়ে এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে, আজকে আমরা কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো ।

তার আগে আপনার কাছে আমাদের রিকুয়েস্ট, আপনি যদি আমাদের ব্লগটি সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন, তাহলে এখনি সাবস্ক্রাইব করে নিন । তাহলে প্রযুক্তি বিষয়ক নিত্যনতুন আর্টিকেল সবার আগে পৌঁছে যাবে আপনার কাছে ।

তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় ফিরে যাই ।

আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো সেটি হলো 32 Bit or 64 Bit Operating System বা Processore নিয়ে । আমার মনে হয় অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত থাকে যে, আমার কম্পিউটারে 32 Bit Operating System ইন্সটল দিবো নাকি 64 Bit Operating System ইন্সটল দিবো ? আবার অনেক সময় কোন সফটওয়্যার ইন্সটল দিতে গেলেও এই ৩২ বিট বা ৬৪ বিট দেখায় । তো এই জিনিসটা আসলে কি সেটা নিয়েই আজকে বিস্তারিত আলোচনা করবো ।

এখানে আমি আরেকটা কথা আপনাদের বলতে চাই সেটা হল – ৩২ বিট বা ৬৪ বিটের সাথে আপনারা আরেকটি নাম্বার দেখে থাকবেন সেটা হল X86 । 32 Bit আর X86 Bit এই দুইটা একই Architect  এর তৈরি করা । তাই এই দুইটাকে আমরা একদিকে রাখছি । আর আরেকদিকে হচ্ছে 64 Bit । এই দুইটা নিয়েই আজকে আমরা বিস্তারিত জানবো । চলুন শুরু করি ......

প্রথমত, ৩২ বিট আর ৬৪ বিটকে আলাদা করার কারন হচ্ছে Memory Addressing Power. ৩২ বিটে  Memory Addressing Power টা একটু কম আর ৬৪ বিটে এটা অনেক বেশি । এখানে কি বললাম সেটা নিশ্চয় আপনার মাথায় ঢুকছে না । এবার আরেকটু খোলাসা করে বলি । একটা কম্পিউটারের প্রসেসর যখন কোন ডেটাকে প্রসেস করে তখন ডেটাগুলোকে Temporary কোথাও রাখতে হয় । আর সেটার জন্য আমরা ব্যবহার করি Random Access Memory বা Ram. আমি আপনাদের আগেই বলেছি যে, ৩২ বিটে Memory Addressing Power টা একটু কম আর ৬৪ বিটে এটা অনেক বেশি । এখন এই হিসাবটা আসলে কিভাবে করা হয় ? নিচে দেখুন ......


ধরি,
1 bit (2^1) = 2 Memory Location ( ১ বিটের জন্য মেমরি লোকেশন )
2 bit (2^2) = 4 Memory Location ( ২ বিটের জন্য মেমরি লোকেশন )
3 bit (2^3) = 8 Memory Location ( ৩ বিটের জন্য মেমরি লোকেশন )
4 bit (2^4) = 16 Memory Location ( ৪ বিটের জন্য মেমরি লোকেশন )

অর্থাৎ প্রতিটা বিট ২ এর ওপর পাওয়ার হিসেবে থাকবে । এভাবে যদি আমরা ৩২ বিট পর্যন্ত যাই তাহলে যে Amount আসবে সেটা হল –

32 bit (2^32) = 4294967296 Memory Location

এত বড় সংখ্যাটাকে যদি আমরা গিগাবাইট (GB) এ কনভার্ট করি তাহলে দাঁড়ায় ৪ জিবি । অর্থাৎ ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমে ৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহৃত হবে । যদি আপনার কম্পিউটারে ৪ জিবির ওপরে র‍্যাম থাকে আর অপারেটিং সিস্টেম যদি ৩২ বিটের হয় তাহলে ৪ জিবির ওপরের র‍্যামটুকু ব্যবহৃত হবে না । কারণ আমরা ওপরে হিসাব করে দেখলাম যে, ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমে সর্বোচ্চ ৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহৃত হয় । বাকিটুকু ওভাবেই পড়ে থাকে ।

এবার যদি আমরা ৬৪ বিটের মেমরি লোকেশন হিসাব করি তাহলে যে সংখ্যাটি আসে তা হল –

64 bit (2^64) = 18446744073709551616

এত বড় সংখ্যা মুখে বলা অন্তত আমার পক্ষে সম্ভব না । তাই আমি এটিকে Exabyte এ কনভার্ট করবো । কারণ Gigabyte এ কনভার্ট করলেও সংখ্যাটি অনেক বড় দেখাবে । তবুও আপনাদের বুঝার জন্য আমি দুইটাই দেখাচ্ছি ।

64 bit (2^64) = 18446744073709551616
বা, 17179869184 GigaByte (GB)
বা, 16 ExaByte (EB)

অর্থাৎ ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমে 16 ExaByte (EB) পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহৃত হবে । কিন্তু এত বড় র‍্যাম এখন আবিষ্কার হয় নি । তবে প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে একদিন হয়তো আবিষ্কার হবে কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা দেখা সম্ভব না । আমাদের নাতি পুতিরাও হয়তো দেখতে পারবে না । সেটা অনেক সময়ের ব্যাপার ।

অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত কথা হচ্ছে – ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমে ৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহৃত হবে । আর ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমে এখন পর্যন্ত বাজারে যত বড় র‍্যাম আছে তার সবটাই ব্যবহৃত হবে এবং সর্বোচ্চ 16 ExaByte (EB) পর্যন্ত ব্যবহৃত হবে । এখন আপনার কম্পিউটারে যদি র‍্যাম ৪ জিবি বা তার চেয়ে কম হয় তাহলে আপনাকে ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে । যদি ৬৪ বিট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার কম্পিউটার ধীর গতিতে কাজ করবে ।

আর আপনার কম্পিউটারের র‍্যাম যদি ৪ জিবির ওপরে হয় তাহলে আপনি ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে অনেক ভালো পারফর্মেন্স পাবেন । যেটা ৩২ বিটে পাবেন না । কারণ ৩২ বিট অনেক পুরনো আর ৬৪ বিট Latest . এখন যদি আপনার কম্পিউটারে র‍্যাম আছে ৪ জিবি যেটা ৩২ বিটের জন্য পারফেক্ট , কিন্তু আপনি ৬৪ বিট চালাতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনি চালাতে পারবেন তবে কম্পিউটারের কাজের গতি একটু ধীর হবে ।

অর্থাৎ সব কথার মোটকথা, ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমে ৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহৃত হবে আর ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমে ৪ জিবির উপরে যত আছে সবটুকু ব্যবহৃত হবে । আরেকটি আনন্দের কথা হল এখন মোবাইলেও ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় ।

এত বড় আর্টিকেল পড়ার পরেও আপনার মনে এখনো একটা প্রশ্ন রয়ে গেছে সেটা হল – আমার কম্পিউটারে কত বিটের অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা সেটা কিভাবে দেখবো ? এটা যদি দেখতে চান তাহলে আপনি My Computer or This PC তে মাউস নিয়ে Right Button এ ক্লিক করে সেখান থেকে Properties এ গেলে সেখানে System Type এ দেখতে পারবেন আপনার কম্পিউটারে কত বিটের অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল দেওয়া ।

এই ছিল আজকের বিস্তারিত আলোচনা । জানিনা আপনাদের কতটুকু বুঝাতে পেরেছি । তবুও যদি ভালো লেগে থাকে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করে তাকেও জানার সুযোগ করে দিন । তবেই আমাদের লিখা সার্থক হবে । আর আমরা আরও ভালো ভালো আর্টিকেল লিখতে উৎসাহ পাবো ।
শেষ কথাঃ আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আলোচ্য আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আমি আশা করবো উক্ত আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি সামান্য কিছু হলেও জানতে, বুঝতে ও শিখতে পেরেছেন । তারপরও যদি কারও বুঝতে অসুবিধা হয় কিংবা কোন প্রকার সমস্যা হয় তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

আজ এ পর্যন্তই । আবার আপনাদের সামনে হাজির হবো অন্য কোন প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল নিয়ে । ততদিন সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন আর টেক রাজ্যের সাথেই থাকুন । ধন্যবাদ...

32 Bit or 64 Bit Operating System কি এবং কেন ? 32 Bit or 64 Bit Operating System কি এবং কেন ? Reviewed by CEO on Friday, May 10, 2019 Rating: 5

No comments:

It can be commented that the post was good. You can also comment on any problem. We will try to solve as much as possible.

Powered by Blogger.